Thursday, March 8, 2018

কোন ব্যান্ডের প্রিন্টার নিবেন, কোনটি ভালো, ব্যবহারের কৌশলাদিসহ আলোচনা! প্রিন্টার রিভিউ A-Z!

সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা। আশা করি ভিজিটর বন্ধুরা সবাই ভাল আছেন। আজকের পোস্টে কোন সফটওয়্যার কিংবা সাইট নিয়ে রিভিউ করব না, পোস্টটি আলোচনা করা হবে প্রোডাক্ট রিভিউ হিসাবে শুধুমাত্র প্রিন্টার বিষয়সমূহ নিয়ে যা পোস্টের শিরোনাম দেখে অনেকেই বুঝতে পারছেন। এখানে আলোচনাতে থাকছে প্রিন্টার কি, প্রিন্টারের প্রকারভেদ, প্রিন্টার ক্রয়ের কৌশল, কোন প্রিন্টার ভালো মানের এবং কিভাবে প্রিন্টারের যত্ন নিবেন ……ইত্যাদি….ইত্যাদি………!!
তাহলে আর কোন গল্পকথা বলতে চাচ্ছিনা। মূল আলোচনা কাজের কথাতে ফিরে যাচ্ছি।

প্রিন্টার কি?

আসলে এই বিষয়টা নতুন করে বলার দরকার হয়না, অনেকটাই পূরাতন। কেননা, ছোট বড় থেকে শুরু করে যারা প্রযুক্তিপ্রেমী তারাই এর সংজ্ঞা বলতে পারবেন। তাছাড়া অনেকেই পূর্বে হয়ত বিভিন্ন বহি/ম্যাগাজিন হতে রিভিউ জেনেছেন। তবুও রিপিটভাবে বলতে হচ্ছে- সাধারনভাবে বলা যায় “যে যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রাপ্ত ফলাফল কাগজে ছাপানো যায় তাকে প্রিন্টার বলে। পিসিতে কোন ডকুমেন্ট তৈরি করে প্রিন্ট হওয়ার নির্দেশ দিলেই প্রিন্ট হবে না। প্রত্যেক প্রিন্টারের নিজস্ব প্রিন্ট ড্রাইভার অআছে। পিসির সাথে সংযুক্ত প্রিন্টারের ড্রাইভারটি ইনস্টল করে নিতে হবে। বর্তমানে ব্যক্তিগত কাজ হতে শুরু করে শিক্ষা, ব্যবসায়িক, অফিস আদালত সহ যাবতীয় প্রতিষ্ঠানে কাজের তাগিদে প্রিন্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। এবং প্রিন্টার ডিভাইস যন্ত্রটি কিন্তু অত্যাবশ্যক একটি বস্তুতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি বিজ্ঞানের দিক হতে প্রিন্টার একটি আউটপুট যন্ত্র।

প্রিন্টারের প্রকারভেদ

· কাজ অত্যাবশ্যকতা ও ধারনার দিক হতে প্রিন্টারকে কয়েকটিভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
· ক। প্রিন্ট আউটপুটের মান হিসাবে- কালার ও সাদাকালো প্রিন্ট পাওয়া যায়।
· খ। ব্যবহারের দিক হতে- আমাদের দেশে বেশ কয়েক ধরনের প্রিন্টার ব্যবহৃত হচ্ছে-

১। Dot Matrix Printer

তুলনামূলকভাবে সস্তা এ সমস্ত প্রিন্টারে কালির রিবনের উপর হেডারের পিন চেপে কাগজে ছাপা হয়। এ সমস্ত প্রিন্টারের প্রিন্ট মান নির্ভর করে হেডারের পিনের উপর। পিন বেশী থাকলে প্রিন্ট ভালো হয়। তবে এই প্রিন্টারের প্রিন্ট গতি অত্যন্ত ধীর গতি সম্পন্ন। উদাহরন: শিক্ষাবোর্ডের/জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজি:/প্রবেশ পত্র এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিল কপিতে যে ডট প্রিন্ট রয়েছে সেটা এই প্রিন্টারের সাহায্য করা হয়।

২। Line Printer

এই প্রিন্টার অবশ্য Inkjet Printer হিসাবে বেশী পরিচিতি। ছোট আকৃতির এ সমস্ত প্রিন্টারের প্রিন্ট কোয়ালিটি অনেক উন্নত। এ সমস্ত প্রিন্টারের দাম কম সর্বনিম্ন ২৫০০/- হবে। কিন্তু কালি ও কার্টিজের দাম অনেকটাই বেশী। তবে যাইহোক এই সকল প্রিন্টার শিক্ষার্থী, ব্যক্তিগত কাজ এবং অফিস আদালতে ছোটখাটো কাজের জন্য অনেক জনপ্রিয়।

৩। Laser Printer

জনপ্রিয় এ সমস্ত প্রিন্টারের প্রিন্ট কোয়ালিটি খুবই উন্নত। কম্পিউটার কম্পোজ করে এক জাতীয় প্রিন্টারে ট্রেসিং পেপারে লেজার প্রিন্ট করে উচ্চ আলোতে প্লেট করে করে অফসেট প্রেসে লক্ষ লক্ষ কপি ছাপিয়ে বই মুদ্রন করা হয়। আমাদের দেশে প্রকাশনা কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এ জাতীয় প্রিন্টারের মুদ্রন পদ্ধতি বেশ জটিল। লেজার প্রিন্টারে কিন্তু কোন রিফিল ব্যবহার করা হয়না। এখানে টোনার বা ড্রামে গুড়া কালি ব্যবহৃত হয়। লেজার প্রিন্টারে প্রিন্ট খরচ Inkjet Printer এর তুলনাই অর্ধেক। এবং অনেক বেশী প্রিন্ট দেওয়া যায়। কিন্তু লেজার প্রিন্টারের দাম কিন্তু অনেক বেশী।
মুদ্রন ও সাধারন কাজের দিক হতে Inkjet Printer এবং Laser Printer বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • অপরদিকে প্রযুক্তি আপগ্রেডের সাথে বেশ কিছু নতুন প্রিন্টার যোগ হয়েছে তথারুপ:

১। থ্রিডি প্রিন্টার

থ্রিডি প্রিন্টিং (ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ) বা যুত উত্পাদন এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে ডিজিটাল মডেল থেকে কার্যত যে কোন আকৃতির ত্রিমাত্রিক কঠিন বস্তু তৈরী করা যায়। যুত প্রক্রিয়ায় থ্রিডি প্রিন্টিং করা হয় যাতে ধাতু বা অন্যবস্তুর স্তর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আকৃতিতে একটি ওপর আরেকটি যুক্ত হতে থাকে।প্রথাগত যান্ত্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে থ্রিডি প্রিন্টিং স্বতন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়, কেননা প্রথাগত পদ্ধতিতে কোন কিছু তৈরি করতে হলে একটি ধাতু বা বস্তুকে কেটে অথবা ছিদ্র করে কাংখিত আকার দেয়া হয়।এই প্রিন্টার সাধারণত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক মুদ্রণের কাজ করে। একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এই মেশিনের বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এবং এগুলোর দামও বেশ অনেকটা কমেছে।প্রটোটাইপিং এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ম্যানুফ্যাকচারিং – দুই ধরণের উৎপাদনেই এই প্রযুক্তি সক্ষম। গয়না প্রস্তুত, পাদুকা শিল্প, ইন্ডস্ট্রিয়াল ডিজাইন, স্থাপত্য, প্রকৌশল ও নির্মাণ, অটোমোটিভ, মহাকাশ, দন্ত এবং চিকিৎসা শিল্প, শিক্ষা, ভৌগলিক তথ্য ব্যবস্থা, পুরকৌশল, এবং অনেক অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।3D Systems Corp এর চাক হাল ১৯৮৪ সালে প্রথম কর্মউপযোগী থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করেছিলেন।

২। ফটো প্রিন্টার

হুম নাম শূনেই বুঝতে পারছেন ফটো প্রিন্টার কি? হ্যা যেখানে শুধুমাত্র মালটিমিডিয়া এবং ফটো এডিটিং করতে ও প্রিন্ট বাহির করতে যে প্রিন্টার ব্যবহৃত হয় সেটিই হচ্ছে ফটো প্রিন্টার। অআপনারা যারা বিভিন্ন স্টুডিওতে ফটো তুলতে যান ও কিংবা কাজ করেন তারাই মুলত ফটো প্রিন্টার ব্যবহার করে থাকেন। একটি ভালো মানের ফটো প্রিন্টারের দাম ও অনেক প্রায় লেজার প্রিন্টারের সমান।
বর্তমানে এমন কিছু প্রিন্টার বাহির হয়েছে যেগুলোতে কেবল বা পাওয়ার কর্ডের প্রয়োজন হয়না। এই গুলো মূলত তারহীন পকেট প্রিন্টার। এখানে লেজার অপটিক্যাল হিসাবে কাজ করে থাকে।
সম্মানীত ভিজিটরগণ উপরোক্ত অআলোচনা হতে প্রিন্টার সম্পর্কে বেশ কিছু সম্যক ধারনা পেলেন। অআশা করি পরবর্তী আপনি কোন প্রিন্টার ক্রয় করবেন বা ব্যবহার করবেন সেই সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারনা পাবেন বলে মনে করি।

আপনি কোন প্রিন্টার ক্রয় করবেন?

প্রথমেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রিন্ট হিসাবে কি কাজ করবেন বা কাজের চাপ কতটুকু হবে তার উপর ভিত্তি করে প্রিন্টার ক্রয় করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সূত্র হিসাবে- অআপনি যদি ছাত্র হয়ে থাকেন কিংবা ঘরোয়া পরিবেশে হালকা ধরনের কাজ করতে চান তাহলে ইংকজেট প্রিন্টার নিতে পারেন। অপরিদিকে যদি ব্যবসায়িক/প্রেস বাইন্ডিং/অফিসের ভারি কাজে লেজার প্রিন্টার নেওয়াটা বাধ্যতামূলক হবে। এবং ফটোর কাজে তো ফটো প্রিন্টার ক্রয় করা ব্যতিত বিকল্প কিছু নাই।

প্রিন্টার ক্রয়ের কৌশল সমূহ

পিসির অন্যান্য যন্ত্র ক্রয়ের মতই প্রিন্টার ক্রয়েও কৌশলী হতে হবে আপনাকে। এই ক্ষেত্রে অাপনি কোন প্রিন্টার ক্রয় করবেন তা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারপর ভালো কোন দোকান হতে প্রিন্টার ক্রয় করুন। এক্ষেত্রে-
  • ১। যে ব্যান্ডের প্রিন্টার ক্রয় করবেন তার রিভিউ পেতে সেই ব্যান্ডের ওয়েব সাইট হতে রিভিউ জানুন।
  • ২। প্রিন্টারটি ওয়ারেন্টি কত দিনের এবং কি সুবিধা অআছে তাহা জেনে নিন।
  • ৩। প্রিন্টারটি যখন ক্রয় করতে যাবেন তখন প্যাকেটটি ইনটেক কিনা দেখে নিন।
  • ৪। আপনি যে দোকান থেকে পন্যটি ক্রয় করতে যাচ্ছেন সেটি মূল Distributor হতে অনুমোদিত কিনা জেনে নিন।
  • ৫। প্রিন্টার ক্রয়ের সময় ওয়ারেন্টি কার্ড, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ যেমন- সিডি, পাওয়ার কর্ড, ইউএসবি ক্যাবল, কার্টিজ বা টোনার বুঝে নিন।
  • ৬। পরবর্তীতে ঐ প্রিন্টারের টোনার/কার্টিজ পাওয়া যাবে কিনা তা জেনে নিন। কেননা, বাজারে এমন কিছু ব্যান্ড রয়েছে যেগুলো কার্টিজ বা টোনার সহজে পাওয়া যায়না।
  • ৭। প্রিন্টার ক্রয়ের সময় একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা নিলে ভালো হয়।

কোন ব্যান্ডের প্রিন্টার আপনি ক্রয় করবেন?

আসলে বাজারে যে সকল প্রিন্টার পাওয়া যায় তা সবই ব্যান্ডের। তবুও কাজের ও প্রযুক্তির দিক হতে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান থাকে। বাজারে জনপ্রিয় প্রিন্টার ব্যান্ডগুলো হচ্ছে এবং সচারচর যে গুলো পাওয়া যাচ্ছে- HP, Canon, Epson, Dell, Brother, Samsung, Lexmark, Konica Minolta,Oki, Xerox ইত্যাদি সহ প্রায় ২০ টির বেশী প্রডাক্ট।
এখানে আপনি যে ধরনের প্রিন্টার তথা লেজার/ফটো/ইংকজেট যাই ক্রয় করতে চান তার সবই উপরোক্ত ব্যান্ড কোম্পানী প্রস্তুত করে থাকে। তবে অবশ্যই কাজের সুবিধার্থে বেশ কিছু মডেল বা ব্যান্ড বলে কথা!!
সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে বাংলাদেশের বাজারে যে প্রোডাক্টের প্রিন্টার আসছে না কেন তা ভাল মানের হচ্ছে না। পূর্বে একটি প্রিন্টার ক্রয় করলে তা ২/৩ বছরের বেশী সময় চলত। কিন্তু বর্তমানে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সবই কেল্লাফতে!! এর অর্থ হচ্ছে- পূর্বে প্রিন্টার গুলো ব্যান্ড কোম্পানীর অরজিন্যাল কারখানা হতে আসত এবং দামও ছিল বেশী। কিন্তু বর্তমানে দেশে যে সকল প্রডাক্ট গুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তার অধিকাংশই চাইনা ও ভারতের কারখানা হতে সংগৃহীত। এখানে অন্য একটি কারন আছে তাহলো- তারা সস্তাভাবে প্রোডাক্টগুলো তৈরি করছে ও মজুরী কম নিচ্ছে ফলে প্রিন্টারগুলো সস্তাদামে পাচ্ছি ও সার্ভিস মোটামোটি মানের হওয়াতে প্রিন্টার বছর ঘুরতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরিদকে যারা উন্নত দেশ তারা অরজিন ইউএস, ইউকে প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে এবং তাদের দাম ও সার্ভিসটাও ভালো মানের হচ্ছে। উদাহরন- তাদের বাজারে যদি এইচ.পি ইংকজেট নরমাল মানের একটি প্রিন্টারের দাম যদি ১০,০০০/-টাকা হয় তাহলে সেই জিনিসটি আমাদের দেশে দাম হচ্ছে প্রায় ২,৮০০/- টাকার মতো। তাহলে এবার থ্যালাটা সামলাই কে!! তবে যাইহোক কাজের তাগিদে প্রিন্টারতো আমাদের ক্রয় করতেই হবে। তবে ব্যান্ড সম্পর্কে ধারনা এবং একটু কৌশলী হলে নিজেই প্রিন্টার ক্রয় করতে পারবেন।

প্রিন্টার ক্রয়ে আমার এবং ব্যবহার কারীদের অভিজ্ঞতা

আমি যেহেতু ছাত্র। সেহেতু এই পর্যন্ত নিজে কোন প্রিন্টার ক্রয় করি নাই। তবে হ্যা অনেকের ক্রয় করে দিয়েছি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রিন্টার ব্যবহারের সুযোগ হয়েছে। এর মধ্যে যদি ব্যক্তিগত প্রিন্ট করবার প্রয়োজন হত তাহলে ফাইলটিকে জিপ ড্রাইভে নিয়ে কোন দোকান হতে প্রিন্ট করতাম।অনেকেই হয়ত আমার মত পন্থা অবলম্বন করেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসের অ্যাসাইমেন্টের চাপ থাকাতে বিগত ৫/৬ দিন পূর্বে একটি এইচ.পি ইংকজেট প্রিন্টার ক্রয় করেছি ২৫০০/-মধ্যে। সার্ভিস মোটামোটি মানের। যাইহোক এখন ব্যবহারকারীরা কোন প্রিন্টার ব্যবহার করেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন না সেটি লেজার হোক কিংবা ইংকজেট/ফটো প্রিন্টার হোক। মূলত প্রিন্টার মান ভাল না হওয়া এবং নিজেদের পরিচর্যার বিষয় না জানার কারনে প্রিন্টারগুলোর আয়ু দ্রুত শেষ হচ্ছে।
  • ক। যেমন- পোস্টের পূববর্তীতে বলেছি- বাজারে এমন কিছু ব্যান্ড আছে যে গুলো রিফিল/টোনার/কার্টিজ পাওয়া যায়না। প্রায় ৪/৫ বছর পূর্বে বাজারে লেক্সমার্ক প্রিন্টার ছিল। এখনো আছে। তখন সময়কার হতে এখন সমস্যা আছে তাহলো- এর রিফিল/টোনার/কার্টিজ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাটা। তখন অনেকেই লেক্সমার্ক প্রিন্টার করেছিলেন কিন্তু রিফিল/টোনার না পাওয়াটার কারনে প্রিন্টার বাদ দিতে হয়েছিলো। অনেক বাসা বা দোকানে হয়ত লেক্স্রমার্ক প্রিন্টার এখনো সচল করতে পারেনি শুধুমাত্র রিফিল/টোনার/কার্টিজ না পাওয়ার কারনে। এটা মূলত আমদানী কারকদের দোষ। কারন তারা অল্প সময়ে মুনাফার জন্য এই সব প্রিন্টার সরবরাহ করে কিছুদিন পরেই ঐ প্রোডাক্ট বাজার থেকে গুটিয়ে ফেলেন। তাই লেক্সমার্ক বাংলাদেশে এই অবস্থার কারনে জনপ্রিয়তা হারায়।
  • খ। লেক্সমার্কের জায়গায় অতি স্বল্প সময়ে হাজির হয় এইচপি ব্রান্ড। সেই সময়ে তারা বেশ কয়েকটি ইংকজেট মডেল প্রিন্টার নিয়ে হাজির হয়েছিলো যেমন- ডি১৫৫০, ১৫৬০, ১৬৬০। ঐ সময়ে আমি বেশ কয়েকটি এনজিও প্রতিষ্ঠানকে ডি১৫৫০ মডেলের প্রিন্টার ক্রয় করেছিলাম। প্রায় ৩ বছরেরও বেশী সময় ধরে যন্ত্রটি চলেছিল। আবার কার্টিজও সব সময় পাওয়া যেত। এই সব কারনে এইচপি বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়তা পাই এমনকি ক্যাননকেও হার মানাই। বর্তমানে এখনো এইচপি জনপ্রিয়। তবে আগের ভার্সনের মত এইচপি প্রিন্টার পাওয়া যাচ্ছেনা। বর্তমানে জে-১১০ মডেল পাওয়া যাচ্ছে, মোটামোটি মানের।
  • গ। ক্যাননের এক সময় খুব জনপ্রিয়তা ছিল। মূলত বাংলাদেশে প্রথম প্রিন্টার জগত হিসাবে প্রবেশ করেছিলো ক্যানন। কিন্তু বর্তমানে সবই এক পালের গরু হয়েছে। তবে আপনি যদি ইংকজেট প্রিন্টার ক্রয় করেন তাহলে ক্যানন থেকে এইচ.পি ভালো। এর কারন হলো- ক্যানন প্রিন্টার চালু করতে গেলে আপনাকে দুটি কার্টিজই ব্যবহার করতে হবে। যদি একটি কার্টিজ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে দুটি কার্টিই পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু এইচপিতে একটি কার্টিজ লাগালেই চলবে।
  • ঘ। একেতো গেল ইংকজেট প্রিন্টারের অভিযোগ। এবার আসি লেজার প্রিন্টারের দিকে। ইংকজেট প্রিন্টারের মতই লেজার প্রিন্টারও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কাজ বলে তো কথা তাই নষ্ট হোক/ভালো হোক লেজার প্রিন্টার লাগবেই। লেজার প্রিন্টারের বেশ কয়েকটি ব্রান্ড রয়েছে। তবে অতীত হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত লেজার প্রিন্টার হিসাবে শীর্ষে আছে ক্যানন। হ্যা ইংকজেটে ক্যানন ভালো না হলেও লেজার প্রিন্ট দিক হতে ভালো। পূর্বে ব্যবহৃত হত Canon LBP 1200, 1050, 1000 ইত্যাদি। এখনো Canon এর LBP মডেল পাওয়া যায়। অপরদিকে ক্যানন হতে শীর্ষে আছে জাপানী ওকি। কিন্তু দাম অনেক বেশী। অপরদিকে নতুন প্রোডাক্ট হিসাবে টোনার পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ! এর পরের অবস্থানে আছে- HP, DELL, Brother, Konico ইত্যাদি।
  • ঙ। অপরদিকে যারা মাল্টিমিডিয়া ও ফটো স্টুডিও ব্যবসা করার কথা ভাবছেন। তাদের জন্য রয়েছে ফটো প্রিন্টার। Canon, HP, DELL, Brother এর ফটো প্রিন্টার অআছে। তবে ফটো প্রিন্টারের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় ব্রান্ড হচ্ছে-Epson। দেশের ফটোব্যবসায়ীদের প্রায় ৭০% বেশী ব্যবহার করে থাকেন Epson প্রিন্টার। Epson প্রিন্টারে কালির ড্রাম ও রিফিল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাছাড়া দেশের বাজারে Epson এর যন্ত্রাংশগুলো সহজেই যে কোন দোকানে পাওয়া যায়। দামের দিক হতে একটি Epson ফটো প্রিন্টার প্রায় ৫,৫০০/-২০,০০০/-হয়ে থাকে। মডেল হিসাবে Epson এর প্রিন্টারে কালির ড্রাম হিসাবে ৩-৬ টি কালি ব্যবহৃত হয়।

সারকথা

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিত সার কথা হচ্ছে- যদি আপনি ইংকজেট প্রিন্টার ক্রয় করতে চান তাহলে সবথেকে ভাল হয় HP inkjek JP-1000। দাম পড়বে প্রায় ২৬০০/- টাকা। অন্যান্য মডেলও আছে। HP প্রিন্টারের সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি যে কোন একটি কার্টিজ ব্যবহার করতে পারবেন। লেজার প্রিন্টার নিতে চাইলে Canon LBP সিরিজের নিতে পারেন। দাম পড়বে প্রায় ৮.৫০০/-মধ্যে। একটু দামে কম নিতে চাইলে স্যামস্যাং নিতে পারেন ৬০০০/- টাকার মধ্যে। ফটো প্রিন্টারের কথা পূর্বেই বলেছি Epson is the Best.
বাজারে প্রিন্টারের একাধিক মডেল রয়েছে। এবং দামের দিক হতেও ভিন্ন। প্রিন্টারের অন্যান্য মডেল ও দাম জানতে অআমার প্রেরিত নিচের ফাইলটি ডাউনলোড করে দেখুন। পোস্টের মধ্যে মূল্য তালিকা দিতে পারতাম, কিন্তু পোস্টের কলেবর বৃদ্ধি পাবে বলে দেওয়া সম্ভব হল না।

প্রিন্টার ক্রয়ে কারসাজি

১। সম্মানীত ভিজিটর বন্ধুগণ! পোস্টের শুরুতেই বলেছি। বাংলাদেশে আমদানীকৃত কোন প্রোডাক্টেরই মান সস্তোষ জনক নই। অআপনি যে প্রিন্টার ক্রয়ে করে ব্যবহার করবেন যেমন- লেজার/ইংকজেট যাই হোক তার সাথে অরজিনাল টোনার, কালি, কার্টিজ দেওয়া থাকে। পরবর্তীতে ফুরিয়ে গেলে অআমরা যা রিফিল করি তা ডুপ্লিকেট। অআসলে এটাই কোম্পানীর চালাকি। তারা মূলত কালি ও কার্টিজ বিক্রয় করে লাভের টাকা উঠিয়ে নেই। ফ্রি হিসাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে দেয়। যেমন- একটি ইংকজেট প্রিন্টার ক্রয় করছেন ২৬০০/-। পরবর্তী যদি ২টি কার্টিজ ক্রয় করতে যান তাহলে দাম নিবে ২৭০০/- অপরদিকে লেজার প্রিন্টারের দাম ৬০০০/-, টোনার ক্রয় করতে যাচ্ছে দাম নিবে ৪০০০/-টাকা। তার মানে যন্ত্রটি ফ্রিভাবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। কালি ও টোনার বিক্রয় করে কোম্পানী লাভ করছে। তাই অনেকেই দায়সারভাবে ডুপ্লিকেট কালি, টোনার ব্যবহার করে থাকেন খরচ কমানোর জন্য। অনেক সময় এই ডুপ্লিকেট দ্রব্যাদি ব্যবহারে কারনে মূল যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আপনাকে আরেকটি প্রিন্টার ক্রয় করতে হচ্ছে।

২। বর্তমানে বাজারে লেজার প্রিন্টার কালার হিসাবেও পাওয়া যাচ্ছে। দাম অনেক বেশী প্রায় ২৫,০০০/- উপর। তবে এত টাকা দিয়ে আপনার কালার লেজার প্রিন্টার কেনার দরকার নাই। সব থেকে ভালো হয় একটি নরমাল লেজার প্রিন্টার ক্রয় করুন এবং সেই সাথে একটি ফটো প্রিন্টার ক্রয় করলে ভালো হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজের ভেদ হিসাবে লেজার ও ফটো দুটি প্রিন্টারের ব্যবস্থা থাকে।
৩। বর্তমানে কিছু প্রিন্টারে স্ক্যান, ফ্যাক্স ও টেলিফোন পদ্ধতি যোগ থাকছে। অর্থাত All in 3 step. এখানে এই অপশনের প্রিন্টার না নেওয়াটাই ভালো। কারন- এই সব অপশন গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর থেকে আলাদাভাবে ফ্যাক্স, স্ক্যানার ক্রয় করে ব্যবহার করাটাই সবথেকে ভালো। অনেকে মনে করেন All in 3 step এর মধ্যে থাকলে অর্থ খরচ কম হবে। না ভাই!এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারনা। এখানে কিছু টাকা সেইভ করতে গিয়ে আপনার মূল কাজের সমস্যার মধ্যে থাকলেন। তথারুপ: প্রিন্টারের কোয়ালিটি ভাল পাবেন না। কিছুদিন ঘুরতেই দেখা যাবে স্ক্যান, ফ্যাক্স ভালোভাবে কাজ করছে না। আগের মত কোয়ালিটি পাওয়া যাচ্ছে না ইত্যাদি…….ইত্যাদি। সুতরাং প্রফেশনাল হওয়াটাই উপযুক্ত।

সর্বশেষ

সম্মানীত ভিজিটরগণ পোস্টটি আলোচনা করতে করতে কলেবর বেশী বৃদ্ধি হয়েছে। আরো বেশ কিছু আলোচনা ছিল। কিন্তু এখানে আর সংযোজন করছিনা। পরবর্তীতে পোস্টে আলোচনা করবার আশা করছি। অপরদিকে পোস্টটি পাবলিশ করতে এডিট বা বানানজনিত ভূল থাকলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টির আহবাণ জানাচ্ছি।  এই পোস্টে আপনাদের কোন মতামত থাকলে তাহা কমেন্ট প্রেরনের অনুরোধ জানাচ্ছি।পরিশেষে সবার সুস্থতা কামনা করছি। সবাই ভাল থাকুন, নিরাপদে থাকুন, পিসি হেল্প লাইনের সাথেই থাকুন। -আল্লাহ হাফেজ-

Previous Post
Next Post

0 comments: Post Yours! Read Comment Policy ▼
লক্ষ্য করুনঃ
পোষ্টের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন কমেন্ট করা যাবে না। কোন কারণ ব্যতীত আপনার ব্লগের লিংক শেয়ার করতে যাবেন না। সবসময় গঠনমূলক মন্তব্য প্রদানের চেষ্টা করবেন। আমরা সবার মতামত সমানভাবে মূল্যায়ন করি এবং যথাসময়ে প্রতি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

Post a Comment

 
Copyright © বিডি.পয়সা ক্লিক,নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত. মডিফাইঃ পিসি টীম, সার্ভার হোস্টেডঃ গুগল সার্ভিস