Wednesday, February 10, 2016

ডিজিটাল ক্যামেরা ক্রয় করতে হলে অত্যাবশ্যকীয় যেসব বিষয়গুলো আপনার জানা প্রয়োজন। ক্যামেরা পর্ব -০২


لسلام عليكم আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় টেকটিউনস কমিউনিটি সাইটের সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি  ক্যামেরা বিষয়ক টিউন ২য় পর্ব। হ্যা আজকের টিউনে যথাযথভাবে চেষ্টা করব ডিজিটাল ক্যামেরা ক্রয় করার কিছু সিক্রেট টিপস সম্পর্কে এবং সাথে অন্য কিছু বিষয়াবলী। অবশ্য যারা গতকালকের টিউন দেখতে মিসটেক করেছেন তারা রিভিউ দেখতে পারেন এখানে
ক্যামেরা হাতে পেলে আমরা সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তার মধ্য অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন আধুনিক ফটোগ্রাফিতে।মূলত মোবাইল ক্যামেরার ছোট জগতে আবদ্ধ না থেকে আরও বড় দুনিয়াতে প্রবেশ করতে প্রবল হয়ে উঠি।


ডিজিটাল ক্যামেরা ক্রয়ের সময় আমরা সাধারনত যে কাজটি করে থাকি তাহলো বাজারে গিয়ে কিছু দোকানে ঘুরে কিছু মডেল দেখি। তারপর যে মডেলের মেগাপিক্সেল সবচেয়ে বেশী, সেটা কিছু না বুঝেই তথারুপ চোখ বুজে ক্রয় করে ফেলি। কেনার পর প্রথম কিছুদিন কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু ৫-৬ মাস থেকে বছরের মাথায় যখন ফটোগ্রাফিতে মোটামোটি দক্ষ হয়ে উঠি তখন বুঝতে শিখি ক্যামেরাতে কি কি বিষয় সমূহ অনুপস্থিত রয়েছে। তখন মনে হয়, কেনার সময় একটু একটু খোঁজ খবর করলেই বোধ হয় ভাল হত। শুধুমাত্র বেশী মেগাপিক্সেল থাকলেই একটা ক্যামেরা ভাল কাজের হয় না, আরও কিছু ‍জিনিস হিসাবে থাকতে হয়। এবার আমরা নিম্নরুপভোবে সেই বিষয় গুলোর জানার চেষ্টা করব।

১। মেগাপিক্সেল



আমাদের সবার একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে, একটি ডিজিটাল ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যত বেশি হবে, ছবির মানও তত ভালো হবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মেগাপিক্সেল কেবল ছবির আকার নির্ধারণ করে। ‘পিকচার এলিমেন্ট’ শব্দদ্বয় থেকেই ‘মেগাপিক্সেল’-এর উৎপত্তি (pixel)। প্রতিটি ডিজিটাল ক্যামেরার প্রায় ৮০ লাখ পিক্সেল থাকে। একটি ৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে ৪ গুণ ৬ ইঞ্চি আকারের একটি ছবি তোলা যাবে। ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে তোলা যাবে ১১ গুণ ১৭ ইঞ্চি আকারের ছবি। ১০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় ফুটে উঠবে ১৩ গুণ ১৯ ইঞ্চি আকারের ছবি। মূলত বেশী মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা বেশী দামি। আবার বেশী পিক্সেলের ছবি আকারে বড় হয়। এর ফলে মেমোরি বেশী খরচ হবার ফলে বেশী ছবি তোলা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বেশী পিক্সেলের ছবি আসলে প্রয়োজন হয় বড় আকারের ছবি প্রিন্ট করার জন্য। যেমন দেশে প্রিন্ট মিডিয়া বেশী মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকে। আমার মত সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য ৪-৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাই যথেষ্ট কারন খুব কম ক্ষেত্রেই আমাদের ৪”X৩” অথবা ৬”X৪” –র বেশী আকারের ছবি প্রিন্ট করতে হয়।

২। সেনসর

ক্যামেরার ভেতরের একটি ছোট্ট চিপ বিদ্যমান। এই চিপ ছবি রেকর্ডে সহায়তা করে। একে বলা হয় ইমেজ সেনসর। এই ইমেজ সেনসরের ওপরই আপনার তোলা ছবির মান নির্ভর করছে। এই সেনসর ২৫ এমএম২ থেকে ২০০০ এমএম২ মানের হয়ে থাকে। বড় মানের ইমেজ সেনসর সাধারণত এসএলআর ক্যামেরায় থাকে। ইমেজ সেনসরের আকার যত বড় হবে, ছবির মান তত ভালো হবে। ডিজিটাল ক্যামেরার দুনিয়ায় সাধারণত দুই ধরনের ইমেজ সেনসর দেখা যায়। একটি সিসিডি ও আপরটি সিএমওএস। সিএমওএস সেনসর সাধারণত কম ব্যাটারি খরচ করায়। এর গতিও সিসিডির চেয়ে অনেক বেশি।

৩। জুম



ক্যামেরাগুলোর সাধারণ দুই ধরনের জুম থাকে। একটি অপটিক্যাল ও অপরটি ডিজিটাল। এই দুই ধরনের জুমের মধ্যে অপটিক্যাল জুম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লেনসের ফোকাল লেংথ পরিবর্তন করে সাবজেক্টকে অনেক কাছে নিয়ে আসে। এতে ছবির মান অটুট থাকে। ডিজিটাল জুম সাধারণত সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত। তবে আমাদের দেশে এখনো ডিজিটাল জুমসংবলিত ক্যামেরা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই রয়েছে। অপটিক্যাল জুম ব্যবহার করলে একটি ছবির কোয়ালিটি র কোন রকম ক্ষতি হবার সুযোগ থাকেনা। কারন পুরো ব্যাপারটায় দুরের ছবিকে বড় করে কাছে আনা হচ্ছে তাই রেখে বাকি অংশ গুলো কেটে বাদ দিয়ে দেয়। তারপর কাটা অংশ টুকু পূনরায় স্ট্যান্ডার্ড সাইজে আনা হয়। যতবেশী ডিজিটাল জুম করা হবে ছবির মান তত বেশী খারাপ হতে থাকবে। তাই ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার সময় তাতে জুম আছে কিনা তা জানলেই হবে না, সেটা কি ধরনের জুম তাও জানতে হবে। আবার বেশী ক্ষমতার জুম শুধু হাতে ব্যবহার করা কঠিন। যত বেশী জুম ব্যবহার করা যাবে, ছবি ততবেশী কেঁপে যাবার আশংকা থাকবে।হাতের সামান্য নড়াচড়া অথবা শ্বাস নেবার সময় ও ছবির কম্পোজিশন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৪। আইএসও

আইএসও আলোর ব্যাপারে সেনসরের স্পর্শকাতরতা (sensitivity) নির্দেশ করে। উচ্চমাত্রার আইএসও তৈরি করে উচ্চমাত্রার স্পর্শকাতরতা। উচ্চমাত্রার আইএসও দিয়ে আপনি স্ফটিকস্বচ্ছ ছবি তুলতে পারবেন। কিছু ডিজিটাল ক্যামেরা এই আইএসও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে নেয়। অনেক ক্যামেরায় ইচ্ছামাফিক আইএসও নির্ণয়ের অপশন থাকে।

৫। ইমেজ সেন্সর

এটি অপটিক্যাল ইমেজকে ডিজিটাল সিগনাল এ কনভার্ট করে। সেন্সরের উপর ছবি তুলার মান নির্ভর করে। এটি দুই ধরনের হয়- CCD (Charge Couple Device) এবং CMOS (Complementary Metal Oxide Semiconductor)। CMOS সেন্সর অনেক ফাস্ট এবং কম ব্যাটারী চার্জ খরচ করে।

৬। শাটার


শাটার আলো আটকে রাখার কাজ করে। লেন্স ও সেন্সরের মাঝে থাকে শাটার, যা শাটার রিলিজ বাটনের প্রেস করার সাথে সাথে খুলে আলো সেন্সরে পাঠায় এবং সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। শাটার খোলা ও বন্ধের মাঝের সময়টুকুই হলো শাটার স্পীড, অর্থাৎ শাটার কতক্ষন খোলা থাকবে সেটিই হলো শাটার স্পীড। শাটার স্পীড কম হলে ছবি ঘোলা আসে অনেক সময়। যেমন চলন্ত গাড়ির ছবি কম শাটার স্পীডের ক্যামেরা দিয়ে তুললে ঘোলা আসবে। আর যাদের ছবি তোলার সময় হাত কাঁপে তাদের জন্য বেশী শাটার স্পীডের ক্যামেরা কেনাই শ্রেয়। শাটার স্পীডকে 1/90, 1/125, 1/250, 1/500, 1/1000, 1/1500 সেকেন্ড হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

৭। লেন্স

লাইটকে ফোকাসের কাজে লেন্স ব্যবহৃত হয়। ছবি তোলার সময় লেন্সের মাধ্যমে সেন্সরে ছবি আসে। কয়েকটি কোম্পানী আছে যারা নিজেরাই লেন্স প্রস্তুত করে, যেমন- Nikkon, Canon। আবার কিছু আছে যারা অন্য কোম্পানীর লেন্স ইউস করে, যেমন- Sony, Panasonic ইত্যাদি।

৮। ফেস ডিটেকশান

ফেস ডিটেকশান টেকনোলজীর মাধ্যমে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা ফেস ডিটেক্ট করতে সক্ষম। যার ফলে আপনি ফোকাস ও রেড আই ডিটেকশন সহ আরো অনেক ধরনের ইফেক্ট দিতে পারবেন।

৯। ডিসপ্লে


ক্যামেরা ও ছবি ম্যানেজমেন্ট ও ছবি দেখার জন্য ডিসপ্লে থাকে ক্যামেরাতে। সাধারনত এটি আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি সাইজের হয়ে থাকে। এলসিডি ডিসপ্লে যত বড় হয় ছবি কম্পোজ করার জন্য তত ভাল। ডিজিটাল ক্যামেরার সবচেয়ে বড় মজা হল ছবি তোলবার পর পরই ছবি দেখতে পাওয়া। ফলে ছবি খারাপ হয়েছে মনে হলে আবার ছবি তোলা সম্ভব।

১০। রেড আই রিডাকশন

ছবি তোলার সময় অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় চোখের রেটিনাটি লাল রংয়ের হয়ে গেছে। সাধারণত কাছে থেকে ছবি তোলার সময় এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। যদিও বর্তমানে গ্রাফিক্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই লাল রংটি সরিয়ে ফেলা যায় তবুও আজ প্রায় অনেক ক্যামেরাতেই অটো রেড আই রিডাকশন প্রযুক্তি থাকছে।

১১। স্যুইপ প্যানোরামা

ধরুন আপনার বাম পাশে আপনার এক বন্ধু দাঁড়িয়ে আছে আর ডান পাশে এক বন্ধু। এখন আপনি তাদের দুই জনের ছবি একসাথে তোলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন ডিজিটাল ক্যামেরার এই নতুন প্রযুক্তি স্যুইপ প্যানোরামা। বিস্তৃত পরিসরে ছবি তোলার জন্য ব্যবহার হয় স্যুইপ প্যানোরামা। যার মাধ্যমে আপনি বাটন প্রেস করে ক্যামেরা হরিজন্টাল ভাবে ঘোড়ানোর মাধ্যমে আপনি আপনার ছবিতে তুলে আনতে পারবেন সাধারন ছবির তুলনায় অনেকবেশী অংশ একসাথে।

১২। মেমরী

ক্যামেরার ইন্টারনাল মেমরী ও এক্সটার্নাল কত পর্যন্ত লাগানো যাবে এবং কোন কোন মেমোরী কার্ড সাপোর্ট করবে, বাজারে তা সহজলভ্য কিনা ও দাম কেমন এসব জিনিস জেনে নিবেন।

১৩। ইউএসবি ক্যাবল

ইউএসবি ক্যাবল সকল ক্যামেরাতে থাকে যা দিয়ে আপনি কম্পিউটারে ছবি নিতে পারবেন মেমরি কার্ড বের করা ছাড়াই।

১৪। ব্যাটারী ও চার্জার

ব্যাটারী চার্জেবল কিনা এবং বাজারে সহজ লভ্য কিনা এসব জিনিস দেখে নিবেন। ব্যাটারী খুলে চার্জ দেয়ার সিস্টেম থাকে যাতে এবং ব্যাটারী যাতে লিথিয়াম আয়ন হয় সেটিও দেখে নিবেন কারন তাতে আপনি একটা এক্সট্রা ব্যাটারী কিনে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে পরে ইউসের জন্য রেখে দিতে পারবেন। আর চার্জার তো সাথে নিবেনই। অবশ্য প্রিয় প্রযুক্তি সাইট টেকটিউনসে এই বিষয় নিয়ে সুস্পষ্টত ধারনা নিয়ে টিউন করেছিলেন অভিজ্ঞ টিউনার নেট মাস্টার। তার টিউনটি দেখলে আরেকটু স্বচ্ছ ধারনা পাবেন। লিংক এখানে

সার কথা

ক্যামেরা ক্রয়ের সময় এমন কাউকে সাথে রাখুন যিনি ক্যামেরা চেনেন ও বোঝেন। কারন আপনি মনে মনে অনেক বিষয়াদি সাজিয়ে রেখেছেন, কিন্তু সব জানার পরও অনেক সময় ভূল হয়ে যেতে পারে।এর পাশাপাশি যদি বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে ব্যবহার করেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন অংশটি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা কম, কোন ফিচারটি ছাড় দেয়া যেতে পারে আর কোনটা রাখতেই হবে। সুতরাং ক্রয়ের পূর্বেই বুঝে নিন কি জিনিস কিনতে যাচ্ছেন! আশা করি উপরোক্ত টিপস গুলো অনুসরন করে আপনি ভাল মানের ক্যামেরা ক্রয় করতে পারবেন এবং সহায়ক হবে। তারপরেও প্রকাশিত টিউনে হয়ত কোন বিষয় অনুপস্থিত থাকতে পারে, সুতরাং কেউ নতুন বিষয় জানালে তা আপডেট করার চেষ্টা করব। আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকুন। আল্লাহ হাফেয-
Previous Post
Next Post

0 comments: Post Yours! Read Comment Policy ▼
লক্ষ্য করুনঃ
পোষ্টের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন কমেন্ট করা যাবে না। কোন কারণ ব্যতীত আপনার ব্লগের লিংক শেয়ার করতে যাবেন না। সবসময় গঠনমূলক মন্তব্য প্রদানের চেষ্টা করবেন। আমরা সবার মতামত সমানভাবে মূল্যায়ন করি এবং যথাসময়ে প্রতি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

Post a Comment

 
Copyright © বিডি.পয়সা ক্লিক,নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত. মডিফাইঃ পিসি টীম, সার্ভার হোস্টেডঃ গুগল সার্ভিস