Monday, January 18, 2016

নিজের কম্পিউটার নিজেই কিনি ও শিখি! [পর্ব-০৫] কোন ব্রান্ডের RAM ক্রয় করবেন? RAM সম্পর্কিত A-Z তথ্যাদি!

সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই এক প্রকার কুশলেই আছেন। হার্ডওয়্যার বিষয়ক ৫ম পর্ব হিসাবে আজ আলোচনাতে থাকছে র‌্যাম বিষয়ক প্রকাশনা। এখানে আলোচ্য হিসাবে জানতে পারবেন র‌্যামের সংজ্ঞা, কিভাবে কাজ করে, র‌্যামের প্রকারভেদ, কি ধরনের ও কোন ব্যান্ডের র‌্যাম ক্রয় করবেন ইত্যাদি তথ্যাদি।

দৃষ্টি আকর্ষণঃ হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত আমার অন্যান্য প্রকাশনা

তাহলে প্রথমে জেনে নিই RAM কি?

কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো র‌্যাম(RAM)। বলা চলে এটিই চালায় আপনার প্রিয় যন্ত্রটিকে। গতি কতটুকু হবে সেটা নির্ভর করে এটির ওপর। RAM (Random Access Memory) আমাদের মোটামুটি পরিচিত একটা শব্দ। গেম খেলতে যে পরিমাণ RAM লাগে সেটা পিসিতে না থাকলে বাঁশ খেতে হয়। RAM হল আসলে একটা টেম্পোরারি অদৃশ্য টাইপের স্টোরেজ। অদৃশ্য স্টোরেজ মানে হলো আপনার পিসিতে কোনো কাজ করার সময় যে হিসাব নিকাশ করে তার জন্য দরকারি সব ডাটা ওই র‌্যাম এ জমা হয়, আর শাট ডাউন করলে সেই RAM এ জমা হওয়া জিনিস সব মুছে যায়।
  • RAM কিভাবে কাজ করে?

RAM আসলে আপনার স্কুলের ব্যাগের মত, স্কুলে যা যা দরকার তা আপনি ব্যাগে ভরে নিয়ে যেতেন, যা দরকার না তা আপনার পড়ার টেবিলে রেখে যেতেন। এখানে টেবিল হল আপনার ফোনের মেমোরি কার্ড, পুরো টেবিল মোটেও আপনি পিঠে করে স্কুলে নিয়ে যেতে পারবেন না(যদি না আপনি ট্রাক বা ভ্যান চালান) কারণ অনেক সময় লাগবে। এই সময়টা বাঁচায় ব্যাগ, কারন এটা বহন করা খুব সোজা এবং দ্রুততর।


RAM এর ক্ষেত্রেও একই, এটা এপ্লিকেশন চালানোর জন্য দরকারী ফাইলগুলো নিজের কাছে রাখে যাতে Processor তা খুব সহজে এক্সেস করতে পারে এবং RAM এর Read-Write speed মেমোরি কার্ডের চেয়ে অনেকগুণ বেশি! (সেজন্যই RAM ইউজ করে, নাইলে আমরা মেমোরি কার্ডকে ঠিকই RAM হিসেবে ইউজ করতে চাইতাম)  তাই RAM বেশি মানে আপনার ডিভাইসের কাজ করার গতিও ফাস্ট হবে, অনেকেরই ধারনা এটা। শিক্ষক যেমন ব্লাকবোর্ড ছাড়া কোন কিছু লিখতে পারে না, কম্পিউটারও তেমনি র‍্যাম ছাড়া কোন কিছু লিখতে ও পড়তে পারে না। কম্পিউটার যখন অন হয় তখন কম্পিউটার কাজ করার মতো তথ্য র‍্যামে এনে তবেই ওপেন হয়। আবার কোন পোগ্রাম রান করলে সেই প্রোগ্রামটা RAM এ এনেই প্রোগ্রামটা ওপেন হয়। যদি কখনো কোন প্রোগ্রাম র‌্যাম এ লোড করার মতো জায়গা না পায় তবে সেটা ওপেনই হবে না। কাজেই যত বেশী র‍যাম লাগান ততোই ভাল চলবে আপনার পিসি। এটা একটা অস্থায়ী স্মৃতি ভান্ডার। বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে গেলে এই স্মৃতি ভান্ডারের সকল তথ্য মুছে যায়।
  • র‌্যামের প্রকারভেদ

র‌্যাম এর বাস স্পীড বেশী হলে কম্পিউটারের গতি বেশী হয়। কাজেই বাস স্পীড দেখে র‌্যাম সিলেক্ট করুন। বিভিন্ন প্রকার র‍্যাম আছে। যেমন- DDR-1, DDR-2, DDR-3 (এই গুলো অনেকটা পূরাতন হয়ে গেছে) (DDR-6, DDR-7, DDR-8 নামে কোন RAM পৃথিবীর কোথাও আছে কিনা জানা নাই।) অবশ্য বাজারে প্রচলিত সমর্থিত মাডারবোর্ড গুলো DDR-4, DDR-5 সাপোর্ট করছে। মাডারবোর্ড ক্রয়ের সময় এর প্যাকেটের উপর ম্যানুয়াল উল্লেখ থাকে কি ধরনের র‌্যাম সাপোর্ট করবে ও কত জিবি পর্যন্ত একসেস করা যাবে। তবে অধিকাংশ মাডারবোর্ড গুলো ৮ জিবি পর্যন্ত র‌্যাম সাপোর্ট করছে।
  • র‌্যামের বাসস্পীড কি?

শুধু জিবি হিসাব করলেই হবে না। সাথে আপনার র‌্যামের বাসস্পীড ভাল হতে। বাস স্পীড হচ্ছে র‍্যাম এর কাজ করার গতি। যে র‍্যাম এর বাস স্পীড যত বেশি সেই র‍্যাম তত দ্রুত কাজ করতে পারে। যদি ২ জিবি র‍্যাম লাগান আর বাস স্পীড যদি কম হয় তাহলে পার্ফরমেন্স ভালো পাবেন না। আবার আপনি আপনার মাদারবোর্ডে যতটুকু Bus Speed এর RAM সাপোর্ট করে, আপনি ততটুকু Bus Speed এর RAM কিনুন। কারন আপনি যদি তার থেকে বেশি Bus Speed এর RAM কিনেন তাহলে তা সম্পূর্ণ কাজ করবে না। একটা উদাহারন দিয়ে সহজ করে দেই। আপনার মাদারবোর্ড যদি DDR3-1066 Bus Speed এর RAM সাপোর্ট করে, কিন্তু আপনি যদি DDR3-1333 Bus Speed এর RAM কিনেন তাহলে তা কাজ করবে DDR3-1066 Bus Speed এ। ফলাফল কি হল। টাকা খরচ হল কিন্তু সেই অনুপাতে Performance পেলেন না। বর্তমানে র‌্যামের বাস স্পীড গুলো হচ্ছে ১৬৬৬ গিগাহার্টস হইতে ৪০০০ গিগাহার্টজ পর্যন্ত।

  • কত জিবির র‌্যাম আপনি ব্যবহার করবেন?

এটা নির্ভর করে ব্যবহাকারীর কাজের উপর। আপনি যদি মুভি দেখা, অফিসিয়াল কাজ, ছোট খাট গেম খেলতে অভ্যস্ত থাকেন তাহলে ২ জিবির র‌্যাম যথেষ্ট। অপরদিকে অ্যানিমেশন, ভিডিও এডিটিং সহ অন্যান্যা কাজ করতে চান তাহলে ৪ জিবি নেওয়াটাই যথেষ্ট হবে। আরেকটি কথা, যারা ৪ জিবি কিংবা তার বেশী র‌্যাম ব্যবহার করবেন তাদের একত্রে ১ টি র‌্যাম ক্রয় না করে খন্ড খন্ড ২ টি র‌্যাম ক্রয় করা ভাল হবে (২+২=৪ জিবি)। অবশ্য এতে একটু খরচ পড়লেও লাভ আপনারই হবে। যেমনঃ একত্রে ১ টি ৪ জিবির র‌্যাম ক্রয় করলেন কিন্তু কোন কারনে সেটি নষ্ট হয়ে গেল। এখানে যদি খন্ডভাবে ২ টি র‌্যাম ক্রয় করতেন তাহলে একটি নষ্ট হলে ২ জিবির অবশিষ্ট একটি র‌্যাম কাজে লাগাতে পারতেন। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

  • কোন ব্যান্ডের র‌্যাম ক্রয় করবেন?

বাজারে প্রায় ২০ টির বেশী ব্যান্ডের র‌্যাম রয়েছে। তবে সবগুলো সমান নই। অপরদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা আসল ব্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল র‌্যাম বিক্রয় করে থাকে। তাই র‌্যাম ক্রয় করার পূর্বে ভাল ব্যান্ড, প্যাকেট ইনটেক ও অনুমোদিত পরিবেশক কিনা তা বিবেচ্য বিষয়। বাজারে যে সকল র‌্যাম পাওয়া যায় তাদের মধ্য অন্যতম Transcend, Twinmos, Kingstone, Apacer, Dynet, Hynix ইত্যাদি। তবে এদের মধ্য প্রথম ৩ টি কেই এগিয়ে রাখব।

  • লক্ষ্যনীয় বিষয়

১। আপনার মাডারবোর্ড কত বাস স্পীডের র‌্যাম সাপোর্ট করে সেই অনুযায়ী ক্রয় করবেন।
২। মনে করি, আপনার মার্ডারবোর্ডের র‌্যামের বাস স্পীড ১৬৬৬ গিগাহার্টস কিন্তু ক্রয় করলেন ২০০০ গিগাহার্টস। তবুও চলবে। সেখানে বায়োস ১৬৬৬ গিগাহার্টস দেখাবে বাকিটা হাইড রাখবে। অর্থাত বাস স্পীড বেশী হলে সমস্যা নাই।
৩। মনে করি আপনার ৪ জিবি র‌্যাম প্রয়োজন। ১ম দিকে Transcend ব্যান্ডের ২ জিবি একটি র‌্যাম ক্রয় করলেন অতপর পরবর্তীতে আপনার পিসির অন্য একটি ব্যান্ডের যেমন Twinmos এর ২ জিবি ক্রয় করলেন। এটা একটা ভূল সিদ্ধান্ত। আপনাকে মনে রাখতে যদি একাধিক র‌্যাম স্লটে একাধিক র‌্যাম ব্যবহার করতে চান তাহলে অবশ্যই একই বাস স্পীড ও একই কোম্পানীর হলে ভাল হয়।
৪। বাজারে বেশ কিছু ব্যান্ডের র‌্যাম আছে যেখানে হিটসিংক সুবিধা যুক্ত রয়েছে। এইগুলোও বেশ ভাল, পিসির তাপমাত্রা হ্রাসে সহায়তা করে। তবে দাম কিছুটা বেশী।
  • র‌্যামের ওয়ারেন্টি

ব্যান্ড অনুযায়ী ওয়ারেন্টি ১ বছরের প্রদান করা হয়। তবে অনেকেই বলে থাকেন লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি। এটা কথার মার প্যাঁচ। তার মানেটা হল যতদিন কোম্পানী তাদের উক্ত প্রডাক্ট তৈরি করবে ও বাজারে বিদ্যমান থাকবে শর্ত প্রযোজ্য স্বাপেক্ষে সেখানে উক্ত কথাটি বলা হয়ে থাকে। তবে একটি মজার বিষয় হল প্রসেসরের মত র‌্যাম সহজে নষ্ট হয়না। ফেইল্যুর হলে হয়ত হাজারে ১০ টা হবে।
 
  • উপসংহার

আলোচনার শেষ পর্যায়ে। আশা করি টিউটোরিয়ালটি অনুসরনের মাধ্যমে আপনি অন্য সকল যন্ত্রাংশের মতই র‌্যাম ক্রয়ে সহায়ক হবে। তারপরেও সমস্যা থাকলে টিউমেন্ট করতে পারেন। আগামী পর্বে অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। সবাই ভাল থাকুন।–আল্লাহ্ হাফেয
Previous Post
Next Post

0 comments: Post Yours! Read Comment Policy ▼
লক্ষ্য করুনঃ
পোষ্টের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন কমেন্ট করা যাবে না। কোন কারণ ব্যতীত আপনার ব্লগের লিংক শেয়ার করতে যাবেন না। সবসময় গঠনমূলক মন্তব্য প্রদানের চেষ্টা করবেন। আমরা সবার মতামত সমানভাবে মূল্যায়ন করি এবং যথাসময়ে প্রতি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

Post a Comment

 
Copyright © বিডি.পয়সা ক্লিক,নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত. মডিফাইঃ পিসি টীম, সার্ভার হোস্টেডঃ গুগল সার্ভিস