Friday, January 1, 2016

নিজের কম্পিউটার নিজেই কিনি ও শিখি! [পর্ব-০১] কোন ব্রান্ডের মাডারবোর্ড উপযোগী ও ক্রয় করবেন সহ খুঁটিনাটি তথ্যাদি !!

السلام عليكم আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় টেকটিউন্স সাইটের সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই এক প্রকার কুশলেই আছেন। অবশ্য টিউনের শিরোনাম দেখে অনেকেই বোধগম্য আমি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাব। হ্যা ঠিকই বলেছেন! আজকের টিউনে সম্মানীত পাঠকদের নতুন বিষয় সম্পর্কে তথা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন অংশ যেমনঃ মার্ডার বোর্ড, প্রসেসর, র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, মনিটর সহ অন্যান্য বিষয়াবলী সম্পর্কে ধারনা দিব। তবে এই সকল বিষয়গুলো আমি বিভিন্ন পর্ব তথা ধারাবাহিক পর্ব হিসাবে সংযোজন করার চেষ্টা করব। অবশ্য এই বিষয় নিয়ে পূর্ব টিটিতে অনেক সম্মানীত টিউনার টিউন করেছেন। অবশ্য বিষয়টি অনেকটা পূরাতন হয়ে গিয়েছে তথাপি এই বিষয়ে অনেক দিন ধরেই নতুন কিছুর আপডেট দেখছিনা। তাই ভাবলাম এই বিষয় নিয়ে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করি। তবে, মূল আলোচনা শুরু করার পূর্বে বলতে চাই আমি কিন্তু অত ভাল টিউনার নই যে, আমার লেখাগুলো পড়ে আপনাদের ভাল লাগবে! কারন নিজের টিউনের যে অবস্থা পাঠকের ভিউয়ের পরিমান ২০০-৩০০ জন। ফলে বুঝতেই পারছেন কি মানের একজন টিউনার আমি নিজে? 

যাইহোক কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বিষয় নিয়ে আমি পূর্বে কোন টিউন করিনি। তথাপি বর্তমানে অনেকেই আছেন যারা কম্পিউটার ক্রয় করবেন কিংবা কম্পিউটার ক্রয়ের বাজেট রেখেছেন। অথচ নিজে বুঝতে পারছেন কি ধরনের পিসি ক্রয় করবেন এবং তাতে কোন জাতীয় হার্ডওয়্যার ভাল হবে কিংবা কোন জাতীয় ব্যান্ড পচ্ছন্দ করবেন তাদের জন্য কিছুটা হলেও গাইড লাইন হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করি। সুতরাং হার্ডওয়্যার বিষয়ক পর্ব হিসাবে প্রথমে আজকের শুরুতে থাকবে মার্ডারবোড সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে যেমনঃ কোন মার্ডারবোর্ড টি ভাল, কি সুবিধা-অসুবিধা বিদ্যামান, বাজার রেট, কোন ব্যান্ড ভাল, ওয়ারেন্টি কত দিনের, প্রতিষ্ঠিত অনুমোদিত ভেন্ডর কারা ইত্যাদি বিষয়গুলো।

হার্ডওয়্যার বিষয় আলোচনা করার পূর্বে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে একটু গল্প
মাফ করবেন “ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাকে আধুনিকায়ন করতে গত কয়েক বছর ধরেই বেশ জোড় তাগিদ চলছে এবং এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বেশ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এবং সফলতাও পেয়েছি। তবে কিছু বিষয়ে ঘাটতিও রয়েছে। যাইহোক সোনার বাংলাকে আরো ডিজিটাল আধুনিকায়নে উচ্চ শিখরে নিতে হলে অবশ্যই সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারী, ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগও দরকার। তবে উদাহরন হিসাবে বলছি ও শুনেছি বাংলাদেশের পার্লামেন্টের অনেক সদস্যই নাকি এখনো তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত নই যেমনঃ ব্লগ কি ভাবে করতে হয়, টুইটার ও গুগল+ এ- কিভাবে টুইট করে ইত্যাদি। তবে যাদেরও একাউন্ট রয়েছে তাদের নাকি তার পিএস কিংবা ফ্যামিলির কেউ হেল্প করেন। 

 প্রতিবেশী বন্ধু পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখছি মমতা ব্যানার্জী, নরেন্দ্র মোদী, কেজরিবাল সহ অনেক পলিটিশিয়ান নিজেরাই এই গুলো ব্যবহারে একদম পাকা খেলোয়াড়। আপনি ভারতের পলিটিশিয়ান হতে শুরু করে যে কোন স্যালিব্রেটি লোকের নাম লিখে সার্চ দিন, পেয়ে যাবেন। কিন্তু আমাদের দেশের এখনো হয়ত অনেকেরই পাবেন না। সুতরাং ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমাদের দেশের সমস্ত পলিটিক্যানদেরও ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য একাউন্ট থাকাটা দরকার। তবে অনেক মাননীয় মন্ত্রী-এমপি মহোদয়দের ফেসবুক, টুইটার, তাদের ওয়েব সাইট দেখে অনেক ভাল লাগলো। মনে হল সত্যিই বাংলাদেশে আমরা অনেক কিছু করতে পেরেছি ও আমরা পারি…!! সুতরাং তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া ও প্রমোট করার জন্য মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আইটি সেক্টরের প্রতি মন্ত্রী জনাব, জুনাইদ আহমেদ পলককে জানাই টিটির পক্ষ হতে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। সেই সাথে আইটি সম্পর্কিত মন্ত্রনালয় ও প্রশাসকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। সেই সাথে আমাদের তথ্য প্রযুক্তিতে যে সব বিষয়গুলো ঘাটতি রয়েছে সেই সকল বিষয়গুলো মাননীয়া প্রধান মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আশু সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ রাখছি। বিষয়গুলো যেমনঃ দেশে পেপাল পাওয়াটা জরুরী, ইন্টারনেটের খরচ কমানো, তরুন আইটি উদ্যেক্তাদের সহজ শর্তে রিন প্রদানের ব্যবস্থা রাখা, বিদেশ হতে আমদানী কৃত প্রযুক্তি ও কম্পিউটার রিলেটেড যন্ত্রাংশ গুলো ভ্যাট কমানো ও কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট মুক্ত রাখা। বিশেষ ক্ষেত্রে মাষ্টার কার্ডের ব্যবস্থা করা যেখানে সিকিউরিটি সমপরিমান অর্থ রেখে বিদেশ হতে কেনাকাটা করতে পারি। যেমনঃ ডোমেইন ও হোস্ট ক্রয়, আমাজন হতে পর‌্য ক্রয় ইত্যাদি। আশা করি উপরোক্ত প্রতিবন্ধকতা অচিরেই দূর হবে ।
ব্যাস! অনেক কথা বলা হল এবার টিউনের মূল আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি। প্রথমেই জেনে নিই মাডার বোর্ড সংক্রান্ত বিষয়াবলী।

মাডারবোর্ড কি?

বর্তমানে যারা আমার মত ফেরিওয়ালা এবং শিক্ষার্থী তারা সবাই এক বাক্য এই সম্পর্কে বলতে পারবেন। কারন, আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যসূচী হিসাবে কম্পিউটার শিক্ষা ও আইসিটি জাতীয় বহিতে এই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা আছে। তবে যারা চাকুরী, ব্যবসা কিংবা সার্ভিসে রয়েছেন তারা বোধ হয় অতটা বলতে পারবেন না মাডারবোর্ড সম্পর্কে! সেই কবে এই বিষয় শুনেছেন কিংবা পড়েছেন। যেহেতু সোনার বাংলাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রুপান্তর ও বাস্তবায়ন প্রয়োগ করতে হলে ব্যক্তিগত মনে করি ছেলে-বুড়ো হতে শুরু করে সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়গুলো জানতে হবে, শিখতে হবে ও অপরের সাথে শেয়ার করতে হবে।
সংক্ষেপে বলা যায় কম্পিউটারের ভেতরে, কম্পিউটারের বহিরাংশ বা বক্স যাকে কম্পিউটারের কেসিং বলা হয় তাতে সংযুক্ত হালকা সবুজ সিলিকনের উপর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যুক্ত বোর্ডকে মাডার বোর্ড বলা হয়। মা যেমন তাঁর শিশুকে বুকের মধ্য আগলে রাখেন, ঠিক তেমনি মাডার বোর্ড অন্যান্য যন্ত্রাংশ সমষ্টিকে তার বুকের মধ্য আগলে রাখে। মাডারবোর্ডে যে সকল যন্ত্রাংশ গুলো থাকে Processor, Ram, Rom, Rechargeable Battery, Expansion Slot, Key board-Mouse conector. তবে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে এটিকে লজিকবোর্ড বলা হয়। মাদারবোর্ডের মাধ্যমে কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা হয়। সাধারণ ডেস্কটপ কম্পিউটারে মাদারবোর্ডের সাথে মাইক্রোপ্রসেসর,প্রধান মেমরি ও কম্পিউটারের অন্যান্য অপরিহার্য অংশযুক্ত থাকে। অন্যান্য অংশের মধ্যে আছে শব্দ ও ভিডিও নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত তথ্যভান্ডার, বিভিন্ন প্লাগইন কার্ড যেমন ল্যান কার্ড ইত্যাদি। কি-বোর্ড,মাউসসহ সব ইনপুট/আউটপুট যন্ত্রাংশও মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত থাকে।
 নিচের চিত্রটি দেখলেই বুঝতে পারবেন-



প্রস্তুত কারক কোম্পানী কর্তৃক মাডারবোর্ডের প্রকারভেদ

মূলত মাডারবোর্ড গুলো প্রস্তুত হয়ে থাকে প্রসসরের বেইজ কিংবা সকেট কেন্দ্রিক। জেনারেশনের সাথে তাল মিলিয়ে একে 1st Generation, 2nd  Generation বলে আখ্যায়িত করা হয়। তথাপি জেনারেশনের সাথে সাথে মাডারবোর্ড প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠানও তাদের আপডেট পরিবর্তন করছে, নিত্য নতুন প্রযুক্তি যোগ করে চমক সৃষ্টি করছে। উদাহরন হিসাবে বলিঃ ৯০ দশক তথা ১৯৯৭-২০০৩ পর্যন্ত যারা মাডারবোর্ড ব্যবহার করেছেন বিশেষত ইন্টেল বেইজের সেখানে পিনযুক্ত মাডার বোর্ড ব্যবহার করেছেন। অর্থাত তখন প্রসেসরে সুঁচের মত পিন থাকত। পরবর্তীতে বর্তমানে ইন্টেলের ব্যবহৃত প্রসসরে কাঁটা/সূঁচ নাই। যদিও এমএমডি প্রসসরে তা বিদ্যমান। অবশ্য প্রসসরের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পরের কোন পর্বে আলোচনা করব। যে কথা বলতে ছিলাম প্রসসরের আপগ্রেডের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাডারবোর্ডের সকেটও পরিবর্তন হয়। যারা ইন্টেল প্রসেসর সমর্থিত মাডার বোর্ড ব্যবহার করেন সেখানে Socket এ-LGA কথাটি উল্লেখ থাকে। যেমনঃ 1st & 2ndGeneration এ- আমরা ব্যবহার করেছি LGA 775, 778, 1156, 1366 ইত্যাদি। যারা পূরাতন পিসি ব্যবহার করছেন কিংবা সেলস সাইট Bikroy dot com, ekhanei সাইটে দেখবেন যে পূরাতন মাডারবোর্ড সেলসের জন্য বিজ্ঞাপন করা হয়েছে তার ৯৫% ই- এই পূরাতন সকেটের সমর্থিত মাডারবোর্ড গুলো। তথাপি সকেট পরিবর্তসের সাথে অন্য যন্ত্রাংশ যেমন Ram, Rom এর পরিবর্তন ঘটছে। 
  • ইন্টেলের পূরাতন প্রসেসর সমর্থিত মাডারবোর্ডের সকেটের চিত্র-

অপরদিকে ইন্টেল ব্যতিত আরেকটি কোম্পানী প্রসেসর নির্মানে খ্যাতি পেয়েছে ও বর্তমানে ইন্টেলের প্রতিদ্বন্দী তাহলে AMD(Advanced Micro Devices)। তাদেরও জেনেরেশনের সাথে আপডেট করতে হয়েছে যেমন তাদের পূর্বের সকেট গুলো হচ্ছে AM, AM+ AM2, AM2+, FM, FM1, AM3 ইত্যাদি ২য় ও ৩য় জেনারেশনের ছিল।
  • AMD এর পূরাতন প্রসেসর সমর্থিত মাডারবোর্ডের সকেটের চিত্র-

সর্বশেষ তথ্যনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় দুটি কোম্পানী তথা Intel ও AMD প্লাটফর্ম বেজের প্রসেসর সমর্থিত মাডার বোর্ড গুলো বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমান প্রজন্মের মাডারবোর্ড গুলোতে যে সকেটগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে

বর্তমানে মাডার বোর্ড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ৪র্থ ও ৫ম প্রজন্ম হিসাবে প্রসেসর সমর্থিত সকেটের মাডারবোর্ড বাজারজাত করছে। আমাদের দেশেও পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য ক্রয়ের সময় প্রতিষ্ঠানকে জিজ্ঞাসা করলেই বুঝতেই পারবেন। তাছাড়া মাডারবোর্ডের প্যাকেটে এই বিষয়টা লেখা থাকে। ৪র্থ ও ৫ম প্রজন্মের ইন্টেল প্রসেসর সমর্থিত আধুনিক সকেটের বোর্ড গুলো হচ্ছে LGA 1150, LGA 1151, LGA 1366, LGA 2011 ইত্যাদি। অপরদিকে AMD সমর্থিত সকেটগুলো হচ্ছে AM3+, FM+, FX, FX+ ইত্যাদি। আশা করি সকেট সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন।




মাডারবোর্ড ক্রয়ের সময় যে বিষয় গুলো প্রয়োজনীয় কিংবা জানতে হবে?

১। মেইনবোর্ডযেনো প্রসেসরসমর্থিত হয়
২। RAM এর ধরন। মেইনবোর্ডে RAM এরস্লট যেরকমহবে, সেইধরনেরই RAM কিনতে হবে। সর্বাধুনিক RAM টাইপহল DDR3
৩। USB Port এর version কত ও পোর্ট সংখ্যাটা কত? সর্বাধুনিকহল USB 3.0 [USB 3.0 পোর্ট বিশিষ্ট মেইনবোর্ডএর দামকিছুটা বেশি]
৪। বর্তমানেসব মেইনবোর্ডেইLAN Card (Local Area Network Card) থাকে।তাছাড়া, HD audio এবং HD Video লক্ষ্য করাযায়। Integrated Graphics এর মানবেশি হলেভালো হয়
৫। মাডারবোর্ডটি কোন ব্যান্ডের?ওয়ারেন্টি কত দিনের?
৬। কোন ধরনের/জেনারেশনের প্রসেসর সমর্থন করে ও বোর্ডের বাস স্পীড কত?
৭। কতটি র‌্যাম সকেট রয়েছে? বায়োস আপডেট ভার্সন কত?
৮। পরিশেষে মাডারবোর্ডের প্যাকেট ইনটেক কিনা তাও যাচাই করে নিতে হবে।


আপনি কি ধরনের মাডারবোর্ড ক্রয় করবেন?

বিষয়টা আপনার তারপরেও কিছু বিষয় আছে। এই জন্য আপনার কাজের উপযোগী মোতাবেক মাডারবোর্ড নির্বাচন করাটা ভাল। আপনি কাজ করবেন সাধারন কিংবা ঘরোয়া পদ্ধতির কিন্তু বোর্ড/প্রসেসর সিলেকশন করলেন অতি দামী। তাহলে বিষয়টা অনেকটা বোকামি পর্যায়ে যাবে। আপনি যদি সাধারন মানের ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন যেমনঃ কম্পিউটার শিখবেন কিংবা শিখছেন, গান, মুভি দেখবেন, মাঝারি মানের গেম খেলবেন, অফিসিয়ালি কাজ করবেন তাহলে ভাল মানের মাঝারি দামের মধ্য বোর্ড নির্বাচন করতে পারেন। এখানে বোর্ডের প্রসেসর হিসাবে ডুয়াল কোর, কোর আই থ্রি, সমর্থিত প্রসেসর বোর্ড আপনার জন্য উপযুক্ত। এই ক্ষেত্রে ৪২০০-৬০০০৳ বাজেট রাখতে পারেন। তথাপি উচ্চমান গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশনের জন্য আরেকটু হাই কোয়ালিটির জন্য দাম ধরতে পারেন  প্রায় ৬৫০০-১০,০০ টাকার মধ্য। যারা সার্ভার হিসাবে বোর্ড ব্যবহার করবেন সেখানে ২০০০০ টাকার উপর বোর্ডের বাজেট রাখা ভাল। সার্ভার বোর্ডের প্রসেসর হিসাবে ইন্টেল জিয়ন নামকরা। অবশ্য আপনি শুধু বোর্ড কিনলেন অতি দামের আর সব সস্তার। তাহলে পারফরম্যান্সের হেরফের হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছ নই। যেহেতু বাজারে সকল মাডারবোর্ডের কম বেশী প্রায় ১ বছরের ওয়ারেন্টি থাকে। 

আমার অভিজ্ঞতাতে দেখেছি ভাল ব্যান্ডের একটু বেশী দাম দিয়ে যদি বোর্ড ক্রয় করা যায় তাহলে ভাগ্য ভাল থাকলে ৩ বছরও চলে যেতে পারে। এই জন্য বাজারে ১ ম ভার্সন হিসাবে যে বোর্ডটি আসে সেটি একটু দাম বেশী হলেও ক্রয় করা ভাল। কারন, ১ম হিসাবে যেটি মার্কেটে আসে সেটি কোম্পানী রেপুটেশন ভাল পাবার জন্য সেইভাবেই প্রস্তুত কনে। অতপর পূরাতন হয়ে গেলে আপগ্রেডের পরবর্তী ভার্সন ভালো নাও হতে পারে। 
এই জন্য শুধু আপগ্রেডের দিকে চোখ রাখলেও হবে না। বুঝার সুবিধার্থে একটি উদাহরন প্রয়োগ করছি-
মনে করি আপনি কোন একটি কোম্পানীর গেমিং বোর্ড ক্রয় করতে যাবেন সেই হিসাবে মডেল ধরি GA Z-170X –Gaming G1. সেখানে বোর্ডটির দাম দোকারদার চাচ্ছে ৪,৫০০ টাকার মত। কিন্তু আরেকটি মডেলের সেটির দাম ৬,৫০০ টাকা। সুতরাং নতুন ভার্সন হিসাবে ৬,৫০০ টাকা মধ্য ক্রয় করাটা ভাল। কারন, আমাদের দেশের অনেকেই টাকা বাঁচানোর জন্য ৩৫০০-৪৫০০ টাকার মধ্য মাডারবোর্ড ক্রয়ের বাজেট শেষ করি। তথাপি স্বল্প দামের যে হার্ডওয়্যার গুলো পাওয়া যায় তার ব্যবহারবিধি বেশী হলেও রিপ্লেস সংখ্যাটাও কম নই। আশা করি বিষয়গুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 শেষ কথা

ইচ্ছা ছিল এক টিউনেই সব কিছু লিখি। কিন্তু এমনিতে টিউনের কলেবর বেশী হয়েছে। তার উপর আরো অতিরিক্ত হলে অগোছালো দেখাবে। তাই এখানেই থামতে হল। আশা করি উপরোক্ত আলোচনা হতে মাডারবোর্ডের বিষয়বলী সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা পেয়েছেন। আগামী বাকি পর্বের আলোচনাতে থাকবে কোন ব্যান্ডের মাডারবোর্ড গুলো ভাল, মাডারবোর্ড গুলো কোন প্রযুক্ত সমূহ ব্যবহার করছে, AMD ও Intel সর্মিথত প্রসেসর যুক্ত মাডারবোর্ডের সুবিধা গুলো কি! ইত্যাদি বিষয় সহ আরো তথ্যাদি সহ আলোচনা। আশা করি আজকের মত বাকি পর্বের সাথে আপনার থাকবেন। এবং হ্যা টিউন সম্পর্কে কোন মতামত, অভিযোগ থাকলে টিউমেন্ট করতে পারেন। এবং টিউনটি অন্য কোথাও শেয়ার করতে পারেন, তবে অবশ্যই সাথে ক্রেডিট লিংক যুক্ত করবেন। তাহলে আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকুন। 
Previous Post
Next Post

0 comments: Post Yours! Read Comment Policy ▼
লক্ষ্য করুনঃ
পোষ্টের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন কমেন্ট করা যাবে না। কোন কারণ ব্যতীত আপনার ব্লগের লিংক শেয়ার করতে যাবেন না। সবসময় গঠনমূলক মন্তব্য প্রদানের চেষ্টা করবেন। আমরা সবার মতামত সমানভাবে মূল্যায়ন করি এবং যথাসময়ে প্রতি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

Post a Comment

 
Copyright © বিডি.পয়সা ক্লিক,নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত. মডিফাইঃ পিসি টীম, সার্ভার হোস্টেডঃ গুগল সার্ভিস